thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

ধিক্কার জানাই এমন ন্যক্কারজনক সাংবাদিকতার

২০১৬ মে ৩১ ১৩:১৯:২৮
ধিক্কার জানাই এমন ন্যক্কারজনক সাংবাদিকতার

সঙ্গীতা ইমাম, অতিথি লেখক : মাছরাঙা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদন দেখে যারপরনাই ক্ষুব্ধ,হতাশ এবং ব্যথিত। জি পি এ ৫ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাক্ষাৎকার নিয়ে তাদের নানা প্রশ্ন করে উত্তর না পারায় হেয় করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত অনেকেই সঠিক উত্তর দিয়েছেন যাদেরটা প্রচারিত হয়নি।

ছেলেমেয়েরা যে প্রশ্নগুলির উত্তর সঠিক দিতে পারেনি তার জন্য একজন শিক্ষক হিসেবে আমি ব্যথিত। তাই বলে মিডিয়ার মাধ্যমে সমস্ত জাতির সামনে অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজনকে, যাদের জীবন সবে পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে তাদের এভাবে অপমান করে মনোবল ভেঙে দেয়ার কোন অধিকার আমাদের নেই।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কেবল পরীক্ষা পাসের উপর দাঁড়িয়ে। অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমন কি রাষ্ট্রও চায় যেনতেন প্রকারে ভালো ফলাফল, কোন কোন ক্ষেত্রে পাসের উচ্চহার। এক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,শিক্ষক, অভিভাবক সর্বপরি সমাজ ও রাষ্ট্র দায় এড়াবে কি করে?

ক'জন অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে গল্প করেন,শহিদ মিনারে, স্মৃতি সৌধে, জাদুঘরে নিয়ে যান? পহেলা বৈশাখে মেলায় নিয়ে যান? খবরের কাগজ পড়তে বলেন। বই মেলায় নিয়ে বই কিনে দিয়ে বলেন, 'পড়ে শোনাবে কিন্তু'! অথবা গল্পের বই পড়লে, 'সময় নষ্ট করছো কেন, পড়তে বসো,'বলে ধমকে ওঠেন না। অধিকাংশের কাছেই পাঠ্য বইয়ের বাইরের বইগুলো অপাঠ্য। তবে আমাদের সন্তানেরা বাইরের জ্ঞানের সাথে পরিচিত হবে কি করে। আর তো রয়েছেই কোচিং ক্লাসের নোটের পাতা গুলে খাওয়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা। কোন কোন শিক্ষার্থী তো বইয়ের চেহারার সাথেই পরিচিত নয়। শুধু পাস করার বা ভাল ফলের জন্য যতটুকু দরকার। আমরা সবাই মিলে তো পৃথিবীর অশুভ ইদুঁর দৌড়ের ট্র্যাকে তুলে দিচ্ছি একটা শিশুকে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। মিথ্যা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুরু শিক্ষা জীবন। পরের ধাপগুলিতে স্কুলের যে শিক্ষক প্রশ্ন বলে দেন তার কাছে টিউশনের ভিড় করেন কিন্তু অভিভাবকেরাই। অধুনা আরেক ধাপ এগিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন আমরা অভিভাবকরাই তুলে দেই সন্তানের হাতে। এর কোন জায়গায় শিশুটির ভূমিকা আছে বা মতামতের সুযোগ রয়েছে বলবেন কি? আর এর কারণেই যে তাদের এই অজ্ঞানতা তা তো স্পষ্ট।

শিক্ষক নিয়োগের সময় মামা চাচা খালু দল ইত্যাদির দৌরাত্ম্য তো আমাদের অজানা নয়। ফলে সেই শিক্ষকদের হাল তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বেহাল। আর যারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে একটু নতুন কিছু করতে চান তাদের নামে অভিযোগ হয় ক্লাসে অহেতুক অবান্তর কথায় সময় নষ্ট করার বা আরও বড় কিছুর।

রাষ্ট্র চায় বশংবদ চাকর, চায় না মেধাবী মানুষ কোনো। 'হীরক রাজার দেশে' চলচ্চিত্রের সেই বাক্য আমাদের মত দেশের শাসকদের কাছে এখনো ধ্রুব,'ওরা যত বেশি জানে, তত কম মানে।'

যে সাংবাদিক বা প্রচার মাধ্যম বয়োসন্ধিকালের এই ছেলেমেয়েদের সামাজিক জীবন এভাবে হেয় করলেন, তারাই এই ছেলেমেয়েদের যে কোন অভিমানী পদক্ষেপের জন্য দায়ী থাকবেন, জানবেন। আমি ধিক্কার জানাই এমন ন্যক্কারজনক সাংবাদিকতার, আপনারা না জাতির মুখপত্র!

তাই একজন অভিভাবক, একজন শিক্ষক এবং শিশু ও শিক্ষার সাথে জড়িত একজন বিবেকবান মানুষ হিসেবে দৃঢ় ও স্পষ্ট কণ্ঠে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের দিকে অঙ্গুলিটি ঘোরান। এই ছেলে বা মেয়েটিকে এ অবস্থানে এনে দাঁড় করালো কে বা কারা?

লেখক : শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

পাঠকের মতামত:

SMS Alert
Symphony

মুক্তমত এর সর্বশেষ খবর

মুক্তমত - এর সব খবর



রে