thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

মূসক না কমলে সব জুয়েলারি দোকান বন্ধের হুমকি

২০১৬ মে ৩১ ১৫:৩৫:১৫
মূসক না কমলে সব জুয়েলারি দোকান বন্ধের হুমকি

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : বাজেটে বিক্রির ওপর ৫ ভাগের স্থলে ১.৫ ভাগ মূসক নির্ধারণসহ ৩ দফা দাবিতে আগামী ৪ জুন থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক একথা বলেন। জুয়েলারী শিল্পে আরোপিত ভ্যাট ৫% এর স্থলে ১.৫% নির্ধারণ এবং স্বর্ণের আমদানি শুল্ক কমানোর দাবিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনামুল হক বলেন, বিক্রির ওপর ৫ ভাগ মূসক (মূল্য সংযোজন কর) বহাল থাকলে এদেশে স্বর্ণের ব্যবসা বলে কিছু থাকবে না। ৫ ভাগ ভ্যাটের কারণে মাত্র ১ বছরে দেশের ৪০টি সোনার দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন কোনো বিনিয়োগ এই খাতে হয়নি।

তিন দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন, জুয়েলারি শিল্প রক্ষার্থে আগামী ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বাজেটে এখাতে আরোপিত মোট বিক্রির ওপর ৫% এর স্থলে ১.৫% মূসক নির্ধারণ করতে হবে। চোরাচালান বন্ধে স্বর্ণের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক প্রতি ১১.৬৬৪ গ্রাম বা ভরিতে ৩০০০ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করে ২ কেজি পরিমাণ স্বর্ণের বার আমদানির সুযোগ দিতে হবে। জুয়েলারি শিল্পের জন্য একটি টেকসই স্বর্ণ নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এসব দাবি পূরণ না হলে আগামী ৪ জুন থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্বর্ণের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দাবি আদায়ের লক্ষে আগামী ৫ জুন ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এবং জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অফিসের সামনে মানববন্ধন হবে।

এনামুল হক বলেন, অতিরিক্ত আমদানি শুল্কের কারণে গত ৩ বছরে বাংলাদেশে কোনো স্বর্ণ আমদানি হয়নি। যত চেষ্টাই করা হোক না কেন দামের উচ্চহার ও ট্যাক্স বজায় থাকলে দেশের ৯০ ভাগ স্বর্ণের ক্রেতা ধনীরা বিদেশের বাজারে চলে যাবে। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য না করে অতিরিক্ত ভ্যাট বহাল রাখলে এদেশের ধনী ক্রেতাদের ধরে রাখা যাবে না। সেইসঙ্গে বন্ধ করা যাবে না স্বর্ণের চোরাচালান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বর্ণ চোরাচালান রুট হিসেবে চিহ্ণিত। এযাবত এমন কোনো বাহিনী নেই যারা এয়ারপোর্টে বন্ধ করতে যেয়ে স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েনি।

তিনি আরও বলেন, এদেশের যারা বাইরের দেশে যান তারা লাগেজের সঙ্গে ১০০ গ্রাম করে স্বর্ণ আনতে পারেন। এভাবে প্রতিদিন ৪০০০ থেকে ৫০০০ ভরি বিদেশি সোনা এদেশে আসে। ঢাকার ১৪টি প্রতিষ্ঠানে রিসাইকেলিং এর মাধ্যমে এসব সোনাকে পাকা করা হয়। এভাবে এদেশে প্রতিদিন যে পরিমাণ উৎপাদন হয় সেই পরিমাণ স্বর্ণের চাহিদা বাংলাদেশে নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গুলজার আহমেদ, এমএ হান্নান আজাদ, এমএ ওয়াদুদ প্রমুখ।

সভাপতি কাজী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভারতে সোনার ওপর মূসক ১ ভাগ। অথচ আমাদের দেশে ৫ ভাগ। ভ্যাট ৫ ভাগ করায় ব্যবসায়ীরা খুবই অসুবিধা ভোগ করছেন। ইতোমধ্যে অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। ভ্যাট বেশি হলে ফাঁকি বাড়বে। ভ্যাট কমানো না হলে এ শিল্প সত্যি সত্যি বন্ধ হয়ে যাবে।

(দ্য রিপোর্ট/এমএম/এপি/এনডিএস/এম/মে ৩১, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert
Symphony

অর্থ ও বাণিজ্য এর সর্বশেষ খবর

অর্থ ও বাণিজ্য - এর সব খবর



রে