thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫

‘ডাক্তার হাসপাতালে সিগারেট খেলে বান্দরবান পাঠিয়ে দেব’

২০১৬ মে ৩১ ১৫:৫০:৫৬ ২০১৬ মে ৩১ ১৭:০৫:০০
‘ডাক্তার হাসপাতালে সিগারেট খেলে বান্দরবান পাঠিয়ে দেব’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : হাসপাতালসহ মন্ত্রণালয়ের স্থাপনায় চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধূমপান করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘যদি শুনি কোনো ডাক্তার সিগারেট খায় তাকে বান্দরবান পাঠিয়ে দেব।’

ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মঙ্গলবার ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০১৬’ উদযাপনের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারি কোনো হাসপাতালে বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো স্থাপনায় ধূমপান করা যাবে না, তামাক সেবন করা যাবে না। আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই। আমি আজ স্পষ্টভাবে বলতে চাই বাংলাদেশের সব মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলা হাসপাতাল, ক্লিনিকগুলোতে সম্পূর্ণ ধূমপান মুক্ত হবে।’

‘ডাক্তার, শিক্ষক, কর্মচারী কেউ ধূমপান করলে আমি তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কেউ যদি ধূমপান ছাড়তে না পারেন বাইরে খান, কেউ আমরা স্থাপনায় ধূমপান করতে পারবেন না। আমি আমার মন্ত্রণালয় ধূমপান মুক্ত করেছি। আমি জীবনে কোনদিন সিগারেট খাইনি, আমার পরিবারের কোনো সদস্য সিগারেট খায় না,’ বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

‘অনেক ডাক্তার আছেন যারা সিগারেট খান’ মন্তব্য করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা দিচ্ছি যদি শুনি কোনো ডাক্তার সিগারেট খান আমি তার পোস্টিং বাতিল করে দেব, তাকে বান্দরবান পাঠিয়ে দেব।’

এ সময় মঞ্চে বসা স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচারক (ডিজি) দীন মোহাম্মদ নুরুল হককে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘ডিজি সাহেব আপনি আছেন, আপনি খবর রাখেন। কেউ হাসপাতালের মধ্যে সিগারেট খেলে আপনি ব্যবস্থা নেবেন। এটা আপনি বাস্তবায়ন করুন। কঠোর না হলে কাজ হবে না। ওয়াজ-নছিহত করে কোনো লাভ হবে না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নাসিম বলেন, ‘আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরই ঘোষণা দিয়েছিলাম, যারা মেডিকেলে ভর্তি হবে তাদেরকে অবশ্যই ধূমপানমুক্ত থাকার সার্টিফিকেট হাজির করতে হবে। এখন বলতে চাই যারা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করছে তাদের সবাইকে ধূমপানমুক্ত থাকতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।’

সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, ছাত্র-ছাত্রী, প্রকৌশলী, ইমাম, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে ধূমপানমুক্ত থাকতে উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে ধূমপানমুক্ত করবেন। তিনি একা এটা করতে পারবেন না। আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কয়েক বছরে তামাকের চেয়ে খাদ্যের দাম বেশি বেড়েছে। সরকার যেখানে তামাক চাষে বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, সেখানে গত ৫ বছরে দেখা গেছে ৫০ হাজার হেক্টর থেকে এক লাখের বেশি হেক্টরে তামাক চাষ হচ্ছে। এ বিষয়টি আশঙ্কাজনক। আমাদের এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘উন্নত দেশগুলো, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তাদের সিগারেট ঢুকিয়ে দেয়। এটা আমাদের নিজেদেরই প্রতিহত করতে হবে। আমাদের তামাকের ট্যাক্সের দরকার নেই। তামাকের কারণে যে অসুখ-বিসুখ হয় তার ব্যয় আরো বেশি। তাই আমাদের তামাকের উপর আরো কঠিন রেস্ট্রিকশন (বিধি-নিষেধ) দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।’

ধূমপানের কারণে মানুষের শরীরের যেকোনো অঙ্গ ক্যান্সারসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, ‘অনেকে সিগারেটের নানান সুফলের কথা বলে থাকেন, আসলে সিগারেটের কোনো সুফল নেই। এটা আণবিক বোমার চেয়েও ভয়ঙ্কর। সিগারেট স্লো পয়জনিং করে, এটা পেশেন্ট ফ্রেন্ডলি পয়জনিং (রোগীবান্ধব বিষক্রিয়া)। ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না তিনি বিষে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

নতুন চিকিৎসকদের এনেস্থেসিয়া কোর্স করানো হবে

বুধবার (১ জুন) নিয়োগ পাওয়া বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের আড়াইশ চিকিৎসকের পদায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ চিকিৎসকদের ছয় থেকে এক বছরের জন্য এনেস্থেসিয়ার (অপারেশনের আগে রোগীকে চেতনাহীন করা সংক্রান্ত চিকিৎসা বিদ্যা) উপর কোর্স করানো হবে। কারণ বাংলাদেশে এ ধরণের চিকিৎসকদের অভাব আছে। অজ্ঞান করার চিকিৎসকদের অভাবে অপারেশন করা যায় না।

তামাক নিয়ন্ত্রণে অবদান: ৪ ব্যক্তিকে সম্মাননা

দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য চার ব্যক্তিকে ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস সম্মাননা-২০১৬’ দেওয়া হয়েছে।

এবার এ সম্মাননা পেয়েছেন- স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণা) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. বিল্লাল হোসেন, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের (ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ) নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ ও ধূমপান-মাদকবিরোধী আন্দোলনের উদ্যোক্তা ডা. অরূপ রতন চৌধুরী।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি নবরত্ন স্বামী পারানিথারান, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান ও সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলান উপস্থিত ছিলেন।

(দ্য রিপোর্ট/আরএমএম/এএসটি/এনডিএস/এম/মে ৩১, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert
Symphony

স্বাস্থ্য এর সর্বশেষ খবর

স্বাস্থ্য - এর সব খবর



রে