thereport24.com
ঢাকা, সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
মো. আবু তৈয়ব

খুলনা ব্যুরো

খুলনায় সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ভাগাভাগি নিয়ে হাতাহাতির অভিযোগ

২০১৬ মে ৩১ ১৯:৫২:৫৩
খুলনায় সোনালী ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, ভাগাভাগি নিয়ে হাতাহাতির অভিযোগ

খুলনার খালিশপুরের সোনালী ব্যাংক শাখায় ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে গাজী জুট ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে বলা হচ্ছে, ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি লাখ লাখ টাকা লুট করে নিয়েছে। ব্যাংক লুটের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর ঘটনাটি প্রকাশ পায়। তবে টাকা লোপাটের ঘটনাটি বেমালুম চেপে যাওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ব্যাংক ম্যানেজারের সম্মতি ছাড়া এত টাকা উত্তোলন সম্ভব নয়। তা ছাড়া গাজী জুট ট্রেডার্সের হিসাবে ঋণ মঞ্জুরের বেশি টাকা পাওনা রয়েছে। ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য একই ব্যক্তি একাধিক হিসাব খুলে ঋণ মঞ্জুর করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

তবে ব্যাংক কর্মকর্তাদের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে সোনালী ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সরদার হাসিবুর রহমান দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘থানা-পুলিশ, মামলা এসব করলে তো টাকা আদায় করা যাবে না। তবে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গাজী ট্রেডার্স টাকা ফেরত দেবে বলে মৌখিকভাবে জানিয়েছে।’

সোনালী ব্যাংক খালিশপুর শাখার ম্যনেজার মফিদুল ইসলাম জানান, খালিশপুর শাখায় পাট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান গাজী জুট ট্রেডার্সের প্রায় আড়াই কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। দিঘলীয়া উপজেলার দেবনগরের গুদামে পাট দেখিয়ে ২ কোটি টাকার প্লেজ ঋণ নেওয়া হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে হিসাবে ওভার ড্রয়িং রয়েছে।

২০১৪ সালের ২০ মার্চ গাজী জুট ট্রেডার্সের পাট গুদামে আগুন লাগলে তারা গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মাধ্যমে ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকার পাট পুড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করে।

গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কোম্পানির (খুলনা শাখা) ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহ জাহাঙ্গীর আবেদ জানান, ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি ৭২ লাখ টাকার চেক ‘সোনালী ব্যাংক খালিশপুর শাখা’ নামে তারা প্রদান করেছেন। অ্যাকাউন্ট পে চেকটি খালিশপুর শাখায় জমা হয়েছে।সোনালী ব্যাংকের খালিশপুর শাখার ম্যানেজার ও প্রিন্সিপাল অফিসার মফিদুল ইসলাম জানান, গাজী জুট ট্রেডার্স তাদের অগোচরে এপ্রিল মাসে কয়েক দফায় ৮২ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে গেছে। তিনি পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে চলতি মে মাসে ৯০ লাখ টাকার পেমেন্ট আটকে দিয়েছেন।

এ নিয়ে গাজী জুট ট্রেডার্সের কর্মকর্তারা ব্যাংকে এসে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার পরিতোষ কুমার বড়ুয়া জানান, সোনালী ব্যাংকের নামের চেকের টাকা কোনো অবস্থাতেই কোনো পার্টি তুলে নিতে পারে না, এটি ব্যাংক বিধির পরিপন্থী।

গাজী জুট ট্রেডার্সের দৌলতপুর কার্যালয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এমনকি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের খুলনা সচিব মো. আব্দুল হামি জানান, ৭ বছরের পাট রপ্তানির পরিসংখ্যানে গাজী জুট ট্রেডার্স বা তার সহযোগী ২টি প্রতিষ্ঠান কোথাও পাট রপ্তানি করেছে এমন কোনো প্রমাণ নাই। পাট রপ্তানির জন্য জুট অ্যাসোসিয়েশনের কোনো সনদও প্রতিষ্ঠানটির নেই বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার উপপরিচালক মো. আব্দুল হাই বলেন, ‘বীমা কোম্পানি ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েছিল ব্যাংকের টাকা সমন্বয় করার জন্য। সেখানে টাকা সমন্বয় না করে প্রতারণা মারাত্মক দুর্নীতি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

(দ্য রিপোর্ট/জেএস/এএসটি/এম/মে ৩১,২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert
Symphony

বিশেষ সংবাদ এর সর্বশেষ খবর

বিশেষ সংবাদ - এর সব খবর



রে