thereport24.com
ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫

‘সোচ্চার হতে হবে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে’

২০১৬ জুন ০৩ ২০:১৫:৫৪
‘সোচ্চার হতে হবে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে’

দ্য রিপোর্ট প্রতিবেদক : গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তি দাবি করে বলেছেন, ‘আমার মতে এখন হাসিনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নয়, সোচ্চার হতে হবে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে।’

নাগরিক ঐক্যের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) শুক্রবার বিকেলে দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমাদের ১০০ জন বিচারকের মেরুদণ্ড হবে না, ততদিন রকীব উদ্দিনের (সিইসি) মেরুদণ্ডতেই…..,তাকে নিয়ে আলাপ করে লাভ নেই। কারণ আমরা ভেবেছিলাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচনই মনে হয় শেষ, তারপর আমরা ইউনিয়ন নির্বাচনে যা দেখলাম..। আগামী নির্বাচন ২০১৯ সালেই হোক বা যেকোনো সময়েই হোক এ রকমই তো হবে।’

মান্নার জামিন নিয়ে বিচারকের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘বিচারপতির কাছে প্রত্যাশা হবে সংবিধানের প্রশ্ন, মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন। তাদেরকে রাখা হয়েছে আমাদের নিরাপত্তা, আমাদের অধিকার যেন সুষ্ঠুভাবে পালিত হয়। রাষ্ট্র যেন একটা স্বেচ্ছাচারী, স্বৈরশাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দেশের সর্বনাশ করতে না পারে। কিছুটা হলেও যাতে জনগণকে নিরাপত্তা দেওয়া যায়। আজকে আসলে জবাবদিহিতা করতে হবে বিচার বিভাগকে। তারা স্বাধীনতার কথা বলেন, অথচ তাকিয়ে থাকেন উপরের দিকে, ওখান থেকে কী হুকুম দিচ্ছেন তার দিকে।’

কোন কারণে দুই বিচারপতি মান্নাকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে জামিন দিলেন না?-প্রশ্ন রাখেন করেন তিনি।

বিচাপতিদের উদ্দেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আপনাদের যথেষ্ট সম্মান করি। আমাদের শেষ ভরসাস্থল হচ্ছেন আপনারা। আপনাদের আরও শক্ত হয়ে আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

এ সময় তিনি বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ‘এতো বড় একটি দল। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী তারা ঘরের কোণে ইঁদুরের মতো করে করলো। কেন বড় পরিসরে করতে পারল না।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘বিচার বিভাগের শক্তি শাসনতন্ত্রের চাইতে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিচার ব্যবস্থা যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না হয়।’

সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মান্নার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা মিথ্যা বলেই জানব। দিনের পর দিন তাকে জেলের মধ্যে রাখার সুযোগ নেই। হয় তার বিচার করুন, না হয় তাকে মুক্তি দিন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার ৫ জানুয়ারির হাস্যকর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে বাম গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার একটা উদ্যোগ মাহমুদুর রহমান মান্না নিয়েছিলেন। মান্নাকে গ্রেফতারের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ সেই আন্দোলন প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ে। তিনি শুধু রাজনীতিক হিসেবেই সক্রিয় ছিলেন না, বিভিন্ন টিভিতে বাক স্বাধীনতার কথা সাহসিকতা ও যুক্তির সাথে বলতেন। মান্নাকে গ্রেফতারের পরে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতাও অনেকাংশে মুখ থুবড়ে পড়ে। এ বিষয়গুলোই প্রমাণ করে মান্নাকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল ৫ জানুয়ারি সরকারকে নিরাপদ রাখার জন্য। যাতে কোনো আন্দোলন না হয়, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন রুদ্ধ করার জন্য। আমি আশা করি না যে মান্না সরকারের কাছে সুবিচার পাবেন। কিন্তু বিচার বিভাগের কাছে সুবিচার পাবেন আশা করেছিলাম।’

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘মান্না সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেনি, সরকারই ষড়যন্ত্র করে মান্নাকে গ্রেফতার করেছে।’

সরকার বিএনপির কোমর ভাঙতে গিয়ে নিজেদের পা ভেঙেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরামের সভাপতিত্বে এবং শহিদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় এতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

(দ্য রিপোর্ট/কেএ/এসবি/এনআই/জুন ০৩, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert
Symphony

রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর

রাজনীতি - এর সব খবর



রে