thereport24.com
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫

‘সারাংশে তুমি’ নিয়ে একান্তে কুমার বিশ্বজিৎ

২০১৬ জুন ০৪ ১৪:১৫:৩২
‘সারাংশে তুমি’ নিয়ে একান্তে কুমার বিশ্বজিৎ

মাসুম আওয়াল, দ্য রিপোর্ট : বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের চিরসবুজ কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ। শুধু সঙ্গীত শিল্পীই নন গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও রয়েছে তার সুনাম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন কয়েকবার। সম্প্রতি তার গাওয়া গান নিয়ে তৈরি হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য মিউজিক্যাল চলচ্চিত্র ‘সারাংশে তুমি’।

চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন আশিকুর রহমান। ফিল্মের প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন অন্তু করিম ও রাহা তানহা খান। ‘বাংলাঢোল’ প্রযোজিত এই ছবিটি সম্প্রতি সেন্সরবোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। শনিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। চলচ্চিত্রটির নানা বিষয় তুলে ধরে দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ। আলাপের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো–

প্রত্যেকটা সিনেমাতেই গান থাকে? আবার গানের ভিডিওকেও অনেকই মিউজিক্যাল ফিল্ম বলছে। সেই দিক থেকে ‘সারাংশে তুমি’— এর বিশেষত্ব কী?

কুমার বিশ্বজিৎ : মিউজিক ভিডিও ও মিউজিক্যাল ফিল্ম দুটো ভিন্ন জিনিস। ফিল্মে একটা স্টোরি লাইন-আপ থাকে। একটা গান মিউজিক ভিডিও করলেই কি সেটা মিউজিক্যাল ফিল্ম হয়? মিউজিক্যাল ফিল্ম অন্য জিনিস। ফিল্মের মধ্যে গান থাকে সেটাও অন্য ব্যাপার। আর ‘সারাংশে তুমি’র কথাই যদি বলি— এই চলচ্চিত্রের কাহিনীটি শুধুমাত্র গানের ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয়েছে।

আর একটু খুলে যদি বলেন...

কুমার বিশ্বজিৎ : একটা রোমান্টিক চলচ্চিত্রের কথা ধরা যাক। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই দুটি মানুষের প্রথম পরিচয়ের গল্প থাকে, প্রেম থাকে, ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। থাকে বিরহ-বিচ্ছেদ, খুনসুটি; বিচ্ছেদের পরে আবার পুনর্মিলন হওয়ার দৃশ্য থাকে। আরও থাকে অসাধারণ কিছু সংলাপ। যার সব কিছুই পাওয়া যাবে এই চলচ্চিত্রে।

‘সারাংশে তুমিতো প্রথমে গানের অ্যালবাম আকারে প্রকাশিত হয়…

কুমার বিশ্বজিৎ : অ্যালবাম হিসেবে প্রকাশিত হয় শুধুমাত্র গানগুলো। সেখানে কোনো ডায়ালগ ছিল না। অ্যালবামে ৮টি গান আছে। একটি গানের সঙ্গে আরেকটি গানের বন্ধন তৈরি ও গল্পের মালাটাকে আরও সুন্দরভাবে গাঁথার জন্য ছন্দে ছন্দে কিছু সংলাপ ব্যবহার করা হয়েছে। এই চমৎকার স্ক্রিপ্টটি তৈরি করেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

এটা চলচ্চিত্র হিসেবে প্রকাশ করার ভাবনাটা কিভাবে এলো?

কুমার বিশ্বজিৎ : আহামরি পরিকল্পনা করে চলচ্চিত্রটি বানানো হয়েছে তা নয়। তবে কনসেপ্টটা কিন্তু নতুন। অ্যালবামটির জন্য প্রথমে একটা গান তৈরি করলাম। এরপর একটা ডুয়েট গান। এইভাবে একে একে গান তৈরি হতে থাকলো। প্রথমে ভাবলাম গানগুলোর মিউজিক ভিডিও করি। পরে দেখলাম গানের মধ্যে এমন কিছু বিষয়বস্তু আছে যেটা দিয়ে একটা নতুন কিছু হতে পারে। পরে গানগুলো মিলিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। (হাসতে হাসতে) মারপিট ছাড়া সবই আছে এখানে। আমি প্রাউডলি বলতে পারি মিউজিক্যাল ফিল্ম হিসেবে এটাই বাংলাদেশের প্রথম কোনো ফিল্ম।

সিনেমাটিতে কী অভিনেতা অভিনেত্রীদের পাশাপাশি শিল্পীদেরও উপস্থিতি থাকছে?

কুমার বিশ্বজিৎ : চলচ্চিত্রে শিল্পীদের শুধুমাত্র কণ্ঠই ব্যবহার করা হয়েছে। শিল্পীদের দেখা যাবে না চলচ্চিত্রে। শুধুমাত্র দুটো চরিত্রের প্রেমের গল্পই তুলে ধরা হয়েছে এখানে।

সিনেমাটি সেন্সর বোর্ডের দরজা মাড়িয়েছে। ৪২ মিনিট ব্যাপ্তির কারণেই তো মুক্তির জন্য বিকল্প পথ বেছে নেওয়া হয়েছে?

কুমার বিশ্বজিৎ : বাণিজ্যিক ফিল্মের সঙ্গে এটা মিলানো ঠিক হবে না। এটা একটা নতুন মাত্রা। এখানে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে শুধুমাত্র গান দিয়েই একটা চলচ্চিত্র হতে পারে। যেহেতু এটা সেন্সর বোর্ড থেকে ছাড় পেয়েছে সেহেতু আমরা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য লড়তে চাই। পুরস্কার যদি নাও পায় ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্ম যারা কাজ করবে তাদের জন্য একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হলো।

সবমিলিয়ে দর্শক নতুন এই উদ্যোগকে কিভাবে গ্রহণ করবে বলে মনে করেন?

ছবিটি আমি বানিয়েছি আমাদের সঙ্গীতের জন্য। সেই অর্থে দর্শকের জন্য এটা ট্রেডিশনাল ও কনভেন্সনাল ফিল্ম না। আমি মনে করি যারা গানের মানুষ, গান ভালোবাসেন তাদের জন্য একটা নতুন মাত্রা যোগ করা হলো। নতুনদের জন্য একটা প্লাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করেছি। এখানেই আমার প্রশান্তি।

(দ্য রিপোর্ট/এএ/এমকে/এইচ/জুন ০৪, ২০১৬)

পাঠকের মতামত:

SMS Alert
Symphony

জলসা ঘর এর সর্বশেষ খবর

জলসা ঘর - এর সব খবর



রে